ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনী জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া ফেনী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ বাহারকে কমিটিতে না রাখায় প্রশ্ন তুলেছেন দলটির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কমিটিতে আবদুল মোতালেবের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে সমালোচনা।
শেখ ফরিদ বাহার ফেনী জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি এবং সাবেক জেলা ছাত্রদল সভাপতি। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় চার দশক ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় নেতারা জানান।
বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ এই নেতার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে স্থান না পাওয়াকে অনেকেই বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠের আন্দোলনে ভূমিকা এবং জেলা বিএনপির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে থাকা একজন নেতাকে যেখানে কমিটিতে রাখা হয়নি, সেখানে কোন বিবেচনায় অন্যদের সদস্য করা হয়েছে?
এদিকে কমিটিতে আবদুল মোতালেবের অন্তর্ভুক্তি নিযে ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য সচীব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভুঁইয়ার দাবি, আবদুল মোতালেব ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের ৫১ নম্বর সদস্য ছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য করা নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ ধরনের কমিটিতে সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা বিবেচনা করা জরুরি।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সদস্য থাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করার পর বর্তমানে আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সদস্য হিসেবে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যেহেতু আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না, তাই কোনো রাজনৈতিক দলেরই আমি প্রতিপক্ষ নই।
সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। তৎকালীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আমাকে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এ জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধা সদস্য হিসেবে আমি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। এছাড়াও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন আমাকে মুক্তিযোদ্ধা আপিল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন।
১৯৮২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব। এছাড়া ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ফেনী জহিরিয়া মসজিদের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে আবদুল মোতালেবের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, কমিটিতে তার অন্তর্ভুক্তির কারণ এবং শেখ ফরিদ বাহারকে সদস্য না রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকের নাম মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সুপারিশ ক্রমে রাখা হয়েছে তবে জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহারের নাম কেউ প্রস্তাবও করেন নি।
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব সম্পর্কে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধা সদস্য হিসেবে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়াও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন তাকে মুক্তিযোদ্ধা আপিল কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। স্থানীয় সুপারিশের ভিত্তিতে কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। প্রাপ্ত পর্যবেক্ষন বা আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটিসমূহ রিভিউ করা হবে।
