ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনী পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমবক্স ভূঁইয়া বাড়িতে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ জায়গায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভূমিমালিকের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় একই বাড়ির বাসিন্দা ফরিদা বাবুল ফেনী মডেল থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব খাতের আওতায় রহিমবক্স ভূঁইয়া বাড়ি প্রকল্পের অধীনে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৫৫ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭ ফুট প্রশস্ত সড়ক ও ৩ ফুট প্রশস্ত ড্রেনসহ মোট ১০ ফুট জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। কাজটি পেয়েছে হোসেন ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হলেও এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারী ফরিদা বাবুলের দাবি, তাঁর স্বামী মৃত আবদুর রহিম ভূঁইয়ার পৈতৃক সম্পত্তি এবং সন্তানদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। জমির মালিকানা, সীমানা ও বণ্টন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমির ওপর দিয়ে রাস্তা পাকাকরণ ও রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের সম্পত্তি ও চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ২ নভেম্বর ফেনী পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন ফরিদা বাবুল। আবেদনে সরেজমিন তদন্ত করে মামলার কাগজপত্র যাচাই এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে রাস্তা পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
ফরিদা বাবুল আরও অভিযোগ করেন, পৌরসভা ও থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তাঁকে গালমন্দ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন। এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, হোসেন ট্রেডার্সের মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে কাজটি দেখভাল করছেন মাসুম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল মোশতাক আহমেদ। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পক্ষে বাড়ির ১৫টি পরিবার রয়েছে। বিপক্ষে রয়েছে একটি পরিবার। তারাই মূলত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তবে বাড়ির সবার মতামতের ভিত্তিতে একাধিকবার বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি। পুনরায় আগামীকাল সার্ভেয়ার এনে ভূমি পরিমাপ করার কথা রয়েছে।’

এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমতিয়াজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশ ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেখতে চাইলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি কামরুল তা দেখাতে পারেননি। পরে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় পুলিশ।
ফেনী পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) বিপ্লব কুমার নাথ জানান, কার্যাদেশ দেওয়ার আগে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। এ কারণে ঠিকাদারকে কাজ শুরু না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কাজ শুরু করা হলে এর দায় পৌরসভা নেবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকির উদ্দিন জানান, পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমবক্স ভূঁইয়া বাড়ির মাঝ দিয়ে ১৫৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত সড়ক এবং ৩ ফুট প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ঠিকাদার নির্ধারণ করা হলেও এখনো কার্যাদেশ হস্তান্তর করা হয়নি। কাজ শুরুর আগে ভূমি বিরোধের বিষয়টি সামনে আসায় এক নারী এ বিষয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ফেনী পৌরসভার প্রশাসক নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘একজন নারী এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিরোধ মীমাংসার পর কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে বিষয়টি ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। পৌর প্রশাসক নিজেও আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে শুনানি হবে। বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারী ফরিদা বাবুল নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে থানায় জানালে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
