বিশেষ প্রতিনিধি:
বদলি হয়ে বদলি, কোথাও যোগদান নয় শেষে সোনাগাজীতে এসেই ‘বেপরোয়া’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আবারও বদলি হয়েছেন এই কর্মকর্তা। গত ১৩আগষ্ট বৃহস্পতিবার তার বদলি অর্ডার হয়ে চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে। সে বদলী ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন দুর্নিতীর অভিযোগ উঠা সেই জয়সেন। বর্তমানে সে বদলী ঠেকাতে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। সে বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে মন্ত্রীর এপিএস এর কাছে ধরনা দিচ্ছে। বড় অংকের লেনদেনের খবরও পাওয়া গেছে। সে তার সব কর্মস্থলে পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে যে সব অভিযোগ উঠেছে তার
প্রথম পর্ব পড়ুন এই প্রতিবেদনে
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে সহকারী প্রকৌশলী জয় সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগে বিভিন্ন কর্মস্থলেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর একাধিকবার বদলি হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সোনাগাজী উপজেলা এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পরই তার বিরুদ্ধে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে।
একাধিক বদলি, কোথাও যোগদান নিয়ে জটিলতা :
জানা যায়, জয় সেনের প্রথম কর্মস্থল ছিল বান্দরবান এলজিইডি অফিস। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তাকে বান্দরবান থেকে কক্সবাজার সদর উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে সেখানে তিনি যোগদান করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর তাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বদলি করা হলেও সেখানেও যোগদান না করার অভিযোগ রয়েছে। পরে ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বদলি করা হয়। সেখানেও তিনি যোগদান করেননি বলে জানা গেছে। এরপর তাকে নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে বদলি করা হয়।
সবশেষে সোনাগাজী উপজেলা এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন জয় সেন।
‘কমিশন ছাড়া কাজ নয়’—ঠিকাদারদের অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, এলজিইডির বিভিন্ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জয় সেনের বিরুদ্ধে কমিশন দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এলটিএম কাজের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ এবং ওটিএম কাজের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়মের কারণে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কমিশন না দিলে কাজ পাওয়া কিংবা কাজ বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।
কর্মচারীকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ
সোনাগাজী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মচারীদের জয় সেন ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তার রূঢ় আচরণ এবং বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে ফেনীর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাশাউরের মাধ্যমে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তার ভয়ে এ অভিযোগকারী তার বিরুদ্ধে ক্যামরার সামনে মুখ খুলতে রাজি হননি।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ(সুত্র : ৯মে ২০২৫ সালে প্রকাশিত মানব জমিন)
জয় সেনের বাড়ি চট্টগ্রামে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চট্টগ্রামে থাকাকালে একসময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলজিইডিতে চাকরি পান।
তিনি ২০২১ সালের ৬ জুন সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে যোগদান করেন। এরপর বান্দরবান এলজিইডি অফিসে প্রথম কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী গোপাল কৃষ্ণ পালের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। সুত্র : ৯মে ২০২৫ সালে প্রকাশিত মানব জমিন
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি
সোনাগাজী এলজিইডির ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কোনো কর্মকর্তা যদি অনিয়ম বা কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারি উন্নয়নকাজের মান ও স্বচ্ছতার ওপর।
তাই জয় সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি, কমিশন দাবি, হুমকি-ধমকি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী জয় সেন অস্বীকার করে। ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এডিয়ে যান।
