নতুন বিতর্কে জড়ালেন ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক ! ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে সমালোচনার ঝড়
ফেনী জেলা প্রতিনিধি:
বিতর্ক যেন কোন ভাবেই পিছু ছাড়ছেনা ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেকের। এবার নতুন কাণ্ডে বিতর্কের পাশাপাশি সমালোচনায় ভাসছেন সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ফেনী জেলা পরিষদের এ প্রশাসক। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিলেন ভিআইপি প্রটোকল। প্রধান অতিথিকে বরণ করতে কোন কিছুরই কমতি রাখেনি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। এতে নতুন করে বিতর্ক জন্ম দিলো মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ও। সাদা কাপড় দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় তোরণ,ফুল ছিটানো, গার্ড অব অনার ও লাল ফিতা নাড়িয়ে অতিথি বরণ ছিলো দেখার মতো। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিকেলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানকে ঘিরে এতো আয়োজন।
যদিও গার্ড অব অনার বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাষ্ট্রপ্রধান বা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর একটি সারিবদ্ধ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। তারপরও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসককে এ ধরণের সংবধর্ণা দেয়ায় জেলাজুড়ে চলছে সমালোর ঝড়। বিদ্যালয় কতৃপক্ষ যেমনি সমালোচনায় ভাসছে তেমনি এ ধরণের অভর্থনা গ্রহণ করে চরম সমালোচনা ও বিতরকের মুখে পড়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ খালেক। এ ধরণের অনুষ্ঠান নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকে লিখেন যেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই এ ধরণের প্রটোকল নিচ্ছেননা, সেখানে একজন জেলা পরিষদের প্রশাসক কোনভাবেই এটি গ্রহণ করতে পারেন না। আরেকজন লিখেন কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য রাস্তায় ছাত্র ছাত্রীদের দাড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা উচিৎ। একজনের মন্তব্য অন্তত ঘন্টাতিনেক পোলাপানগুলোরে রোদে দার করিয়ে রেখেছে নিশ্চয় এই নবাব শের শাহ এর আগমনে। মনে হয় যেনো প্রধানমন্ত্রী আইছে মন্তব্য করেন একজন। শিক্ষকেরা এ ধরনের তেল মারা কারনে অন্যের কাছে লজ্জিত হয়।দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে , তেলবাজ শিক্ষক শ্রেণী ও তেলবাজ নেতাদের কল্যাণে এমন মন্তব্য করেন একজন। একজন লিখেন পুরাতন সংস্কৃতির নতুন রূপ।এটাই কি দেশনায়কের তথাকথিত প্ল্যান??পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না এগুলো। পড়া লেখাতো নেই আর কি করবে বসে বসে।এটা কোন ভাবে কাম্য নয়। স্কুলের ছাত্র ছাত্রী রোদে দাড়ীয়ে কেন প্রধান অথিতিকে সেলুট দিতে হবে।যেখানে প্রধান মন্ত্রী বলেছেন কোন শিক্ষার্থী রাস্তায় দাড়ীয়ে থাকবে না বলে মন্তব্য করেন আরেকজন।
এ ধরণের রাজকীয় আয়োজন নিয়ে মানবজমিনকে সংবর্ধিত অতিথি এম এ খালেকের সাফ উত্তর প্রধানমন্ত্রীকেও এ ধরণের অভ্যর্থনা দেয়া হচ্ছে। ভিআইপিদের দেয়া হয়। আমি উৎসাহী করিনি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে করা হয়েছে,আর এ ধরণের অনুষ্ঠানে নিষেধও নেই। তিনি বলেন এমপিদের ট্রাকে ট্রাকে ফুল দিচ্ছে, তাতে প্রশ্ন উঠছেনা কেন। জনপ্রতিনিধি হলে অনেকে আবেগে এ গুলো করে বাধা দিয়েও আটকানো যায়না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট কাজী মোহাম্মদ সিরাজ অসুস্থ থাকায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র কুমার নাথ।ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র কুমার নাথ জানান ধারাবাহিকতা অনুযায়ি এ ধরণের আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিয়ে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। সকাল ৯টা থেকে দিনভর ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, যেমন খুশি তেমন সাজোসহ বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয় মাঠে। প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে পৌছান বিকাল ৪টার পর। মাগরিবের আযানের আগ মুহুতে অনুষ্ঠানের সমাপতি ঘটে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানের বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ব্যয় করা হয় ৫০ হাজার টাকা। তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে মোট ছাত্রছাত্রী মাত্র ২৬০ জন। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে ৬২ জন। গত বছর ৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৩৫ জন।
এর আগে গেল বছর ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী সদর উপজেলা তাঁতী দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এম এ খালেক বলেন “আমরা কখনো চাইনা বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। বিএনপি হলো একটা ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এরা গণতন্ত্র বুঝে না, এরা নির্বাচন বুঝে না। এরা জনগণের মনের বাসনা বুঝে না, এরা বুঝে ক্ষমতা। তাদের ক্ষমতা দরকার। নির্বাচন-টির্বাচন গণতন্ত্র এগুলোর ধার ধারে না তারা।” যদিও পরে বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে পরে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি নিজেও বক্তব্যটা শুনে গলদঘর্ম হয়ে গেছি। খালেকের বাড়ি মোটবী ইউনয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায়ও নানান বিতর্কে জড়ান খালেক।
এর আগে নানা কারনে আলোচিত ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৪ সালে ১ অক্টোর প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মজুমদারকে জোর পূবর্ক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন সহকারি প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র কুমার নাথ, শিক্ষক মোহাম্মদ নুর নবীর নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে। আগে থেকে টাইপ করা ছিলো কাগজটি। তিনি এ নিয়ে জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক থেকে ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর মোটবী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আমিনুল।
