নিজস্ব প্রতিবেদক:
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব আবারও উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২ জন উদ্যোক্তা পরিচালক ও দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালককে নিয়ে ১৪ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন পরিচালনা পর্ষদে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ এবং কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্থান পেয়েছেন।
এছাড়া পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, এনায়েত উল্লাহ, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।
তবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণার পরই কেডিএস গ্রুপের কয়েকজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন এস আলম গ্রুপের মালিকানায় থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণে ছিল কেডিএস গ্রুপ। সে সময় ব্যাংক থেকে ঋণের নামে কয়েকশ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রহমান এবং তার ভগ্নিপতি, ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম শামীম ইকবালের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সেলিম রহমান ও এস এম শামীম ইকবাল আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করে বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এস এম শামীম ইকবাল এবং তার স্ত্রী হাসিনা ইকবাল কেডিএস গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে, কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও অতীতে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন অন্তত পাঁচটি মামলার আসামি হওয়ার তথ্য বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।
এর আগে কেডিএস গ্রুপের দুই শীর্ষ পরিচালক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কানাডায় শতকোটি টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রহমান এবং তার ভগ্নিপতি, ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম শামীম ইকবাল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব পেলেও, অতীতে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর বর্তমান আইনগত অবস্থান নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
