জনতার কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট :
ফেনীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাঁদের আটকের সময় নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবিতে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের পৃষ্ঠপোষকতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা—এমন অভিযোগ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভোরে শহরতলির কালিপাল দশমীঘাট এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের দাবি, বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে ফেনী পৌরসভার সহদেবপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরদিন সকালে অনুষ্ঠিত মিছিলের ঘটনায় করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুই প্রত্যক্ষদর্শীও দাবি করেন, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাঁরা কী কারণে সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, তা জানেন না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
অন্যদিকে, ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, মিছিলের ঘটনায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। এতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মিছিলের পর অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছে। আগের রাতে আটকের পর মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
