সোনাগাজী প্রতিনিধি | জনতার কণ্ঠ :
ফেনীর সোনাগাজীতে চারণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত প্রান্তিক খামারি। গবাদিপশুর বিচরণ ও খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে চারণভূমি নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় খামারিরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচি পালন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারজান হোসাইনের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজীর পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল মৎস্য চাষের নামে এক শ্রেণির ভূমিদখলকারীর দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় এলাকাজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প ও কৃষি খামার স্থাপনের জন্য সরকার ভূমি অধিগ্রহণ করেছে। এতে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া পালনের জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমির সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
খামারি নাজমুল হক বলেন, চারণভূমির অভাবে অনেক খামারি ইতোমধ্যে তাদের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যরা বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে না পেরে গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চরাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে নির্দিষ্ট চারণভূমি সংরক্ষণ করা জরুরি।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা বলেন, সোনাগাজীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের চারণভূমি গবাদিপশু পালন ও দুধ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু নানা কারণে এসব জমি সংকুচিত হওয়ায় হাজার হাজার প্রান্তিক খামারির জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ ও খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে চারণভূমি অবৈধ দখল ও অন্যান্য আগ্রাসন থেকে রক্ষার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. মোস্তফা বলেন, নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং চারণভূমির জমি উদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক ও সমাজকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি গ্রহণ করে ইউএনও মারজান হোসাইন খামারিদের সমস্যা ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
