জনতার কণ্ঠ ডেস্ক :
ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে ক্ষয়ক্ষতি অব্যাাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তেহরান সহ ইরানের বড় শহর গুলোতে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। হামলা ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক অবকাঠামোগুলোতে। যুদ্ধের এই ধ্বংসযজ্ঞে কারণে ইরানের অর্থনীতি হুমকির মুখে। চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে দেশটির সাধারণ মানুষ।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। হামলায় আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র এমনকি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোও বাদ যায়নি।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য মতে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কারনে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন রয়েছে ৯০ হাজারের বেশি।
বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ধ্বংস করা হয়েছে ২১ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এমনিকি মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যুক্ত ১৮টি প্রতিষ্ঠান এবং তিনটি ত্রাণবাহী হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার ফলে ২ শতাধিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি হাসপাতাল সবেসামরিকম্পূর্ণভাবে অচল।
অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ইরানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাও। দেশটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইউনেসকো তালিকাভুক্তসহ বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে এসেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করছে, তাঁরা কেবল সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। তবে ইরানিরা বলছেন, বেসামরিক এলাকাগুলো ক্রমেই বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে।
যুদ্ধের ২য় মাসে এসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৯শ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে এই যুদ্ধ কেবল ধ্বংযজ্ঞ, যেখানে অন্তহীন আতঙ্ক, আর্থিক বিপর্যয় আর বছরের পর বছর ধরে শ্রমে-ঘামে গড়ে তোলা সবকিছুর আকস্মিক বিনাশ।
