সুমন পাটোয়ারী দাগনভূঞা :
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ২নং রাজাপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন বোর্ড অফিস নির্মাণ এবং বর্তমানে প্রস্তাবিত স্থানের টেন্ডার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কোরাইশ মুন্সী বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির শুরুতে কোরাইশ মুন্সী বাজারের বিভিন্ন সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় গণসমাবেশ।
অলি আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন সবুজ, হারুন মাস্টার, মিজি মন্নান, মাওলানা শিহাব উদ্দিন, এম এ খালেক, গিয়াস উদ্দিন ভূঞা, এনসিপির ফেনী জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনসুর আহমেদ ভূঞা, সাবেক ইউপি সদস্য কাশেমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, ২নং রাজাপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত স্থানটি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের জন্য দূরবর্তী হওয়ায় সেখানে বোর্ড অফিস নির্মিত হলে সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
তারা আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই এর অবস্থান এমন স্থানে হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডের মানুষ সহজে ও সমানভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এ বিবেচনায় চাঁদ মিয়ার বাজার থেকে কোরাইশ মুন্সী বাজার সংলগ্ন ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনমত ও ভৌগোলিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে বর্তমান স্থানে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে ওই টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে সমীক্ষা পরিচালনার মাধ্যমে ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় স্থানে বোর্ড অফিস নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বোর্ড অফিসের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
