পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
বাংলা সনের হিসেবে এখন বসন্তের শেষ পর্যায়। এসময় সাধারণত কাঠ ফাটা রোদের আবহ থাকে। কিন্ত পঞ্চগড়ে বসন্তের আকাশ যেন আকস্মিক ঘন কুয়াশার ঢেকে আছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এমন দৃশ্য দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। সকাল ৮ টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল গোটা এলাকা।
প্রকৃতির এমন পরিবর্তিত রুপকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলেছেন পরিবেশ বিষয়ক অভিজ্ঞত জনেরা। তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে এমন কুয়াশার পড়ছে।
ববাংলা বর্ষপঞ্জির ষড়ঋতুর গণনায় এখন গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা। তবে এবার এখনো গরম আবহাওয়ার শুরুই হয়নি। কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি নামছে। বৃষ্টি না থাকলেও মেঘলা আকাশের সাথে হালকা শীতের রেশ যেন রয়েই গেছে। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে আকস্মিক ঘন কুয়াশায় বেশ কৌতুহলী স্থানীয়রা। সকাল ৮ টা পর্যন্ত তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা দেখা গেছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল রাস্তা-ঘাট, মাঠ, ফসলি জমি ও গাছপালা। কৃষিজমির ঘাসের ডগায় দেখা গেছে বিন্দু বিন্দু শিশিরকণা।
জেলা শহরের কলেজ রোড এলাকার ভ্যান চালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, শীত কালে এমন কুয়াশা দেখি। আজকের ঘনকুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে আবার বুঝি শীত চলে আসলো। ভোর থেকে কিছু দেখা যায়নি। এখন একটু করে আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে।
ময়দানদীঘি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক পরিবেশবিদ শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার এমন বৈচিত্র্য রুপ দেখছি। বাংলার চিরচেনা রুপ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ঋতুর গণননায় চৈত্রের এই সময় তীব্র গরম আবহাওয়া থাকে। কিন্ত এখনও পঞ্চগড়ে যেন শীতের রেশ কাটেনি। আজকের ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশা দেখা গেছে। সাথে শীতের আমেজ ছিল।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এই ধরনের কুয়াশাকে সাধারণত ‘স্টিম ফগ’ বা ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলা হয়। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে এলে জলীয় বাষ্প জমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়। এরপর তা ঘন কুয়াশায় রূপ নেয়। এছাড়া বর্তমানে দক্ষিণা বাতাস, মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তা, দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য, হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া, দীর্ঘ সময় আকাশে মেঘের অবস্থানের কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।।
