ফেনীতে ছাত্রদল এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার রাতে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর এলাকায় ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিন শিবলুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং ফেনী আলীয়া মাদরাসা ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি ইটভাটায় মাটি পরিবহনকে কেন্দ্র করে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে বাধা দিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আরফান, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর মোশাররফ হোসেন রিয়াদ, যুবদল নেতা মানিক অপু এবং তাদের অনুসারীরা।
পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল থেকে দফায় দফায় হামলার পর সন্ধ্যায় পেট্রোল ঢেলে বসতঘর ও পাকাঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে একটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং পাশের ঘরের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আরফানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শর্শদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।
এদিকে, ঘটনার পর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির উদ্দীন খোন্দকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবদল নেতাদের দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
