বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশী আমেরিকান মেডিসিন গবেষক ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক প্রফেসর ড. মজিবুল হক যুক্তরাষ্ট্রের Washington University of Science and Technology (WUST) এর হেলথ সায়েন্স (ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন) বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে স্বাগত জানায়।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, শিক্ষা, মেডিসিন নিয়ে গবেষণা ও মানবকল্যাণে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ হিসেবে তিনি এই দায়িত্বকে দেখছেন। ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিষয়ে দীর্ঘদিনের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চান।
বাংলাদেশের ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা চরমজলিশপুর ইউনিয়নে মাওলানা পাড়ায় জন্মগ্রহণকারী ড. মজিবুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় দেশে। উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–মিলওয়াকি থেকে বায়ো-অর্গানিক (মেডিসিনাল) কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস মেডিকেল ব্রাঞ্চে ড্রাগ ডিসকভারি গবেষণার ওপর পোস্টডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
মেডিসিন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে ইন্টিগ্রেটিভ ও ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ‘ডক্টর অব ন্যাচারোপ্যাথি’ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ফাংশনাল মেডিসিন ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের উপরে সার্টিফিকেট অর্জন করেন.
প্রফেসর ড. মজিবুল হক ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন, হিউস্টন কমিউনিটি কলেজ এবং হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করেছেন। বর্তমানে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডব্লিউইউএসটি) তে অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি একটি বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ম্যানেজার এবং দ্য সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন প্রতিষ্ঠানে কনসাল্টেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে ড. হক যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কিন্তু নিজ দেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশে ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পুষ্টি, জীবনযাপনভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সমন্বিত চিকৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদান করে। প্রফেসর ড. হকের গবেষণাকর্ম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণামূলক মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনার, ডক্টর এবং ক্লিনিক্যাল সার্ভিস প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকেন।
প্রফেসর ড. মজিবুল হক স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক ভিডিও ও আলোচনা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নেরও বেশি। তাঁর তৈরি করা কনটেন্ট অনুসরণ করে এবং তাঁর প্রশিক্ষিত মেডিকেল চিকিৎসকদের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
তাঁর গবেষণা, বই, লেকচার এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক গাইডলাইনসমূহ উন্মুক্তভাবে www.drhaque.net ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়, যা বিশ্বের যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর গবেষণালব্ধ জ্ঞান মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই তাঁর জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, Washington University of Science and Technology (WUST)-এ প্রফেসর হিসেবে তাঁর এই যোগদান শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা এবং ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাঁর নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগ নিরাময়ের একটি সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
