নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় তানিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ভেতর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, তানিয়া আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের জলস পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তানিয়া আক্তার উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের কেরোনিয়া গ্রামের মৃত নেয়ামতুল্লাহ খানের মেয়ে। তিনি দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের মৃত চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মদ ওয়াজিদের (৩০) স্ত্রী।
নিহতের ভাই মাঈন উদ্দিন খান জানান, প্রায় সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়, একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।
তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তানিয়ার কাছে যৌতুকের বাকি সামগ্রী এবং স্বামীর বিদেশযাত্রার (ইকামা-সংক্রান্ত) খরচের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া বিয়ের দুই মাসের মধ্যে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করেও তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
