ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজী পৌর শহর কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে আটক নিয়ে ২২ মে শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতা সৈয়দ আলম ভূইয়া ও যুবদল নেতা জাবেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে৷ এরপর কিশোর অপরাধে জড়িতদের থানায় আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করে সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী দাগনভূইয়া সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হানের অপসারণের দাবিতে বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভটি সোনাগাজী মডেল থানার সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে পুনরায় পৌর শহরের শূন্য রেখায় মিলত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূইয়া, পৌর সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূইয়া, পৌর আহবায়ক ইকবাল হোসেন, সোনাগাজী সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নুর ইসলাম সম্রাট, ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক নেতা আলা উদ্দিন সহ শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এঘটনায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে সোনাগাজী মডেল থানার অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ফ্রেশ কোম্পানিতে চাকরীরত তানভীরুল ইসলাম তারেককে আটক করে। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন আরো ৪জনকে ধরে পুলিশে দেয় বিক্ষোভরত বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, কিশোর অপরাধে জড়িত বেলালকে আটক করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে পুলিশের গাড়ী থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যুবদলের নামধারী জাবেদ ও চরদরবেশ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন রাজু। তখন আমাদের নেতাকর্মীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে বাঁধা দিলে জাবেদ ও রাজু হামলা করে।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূইয়া বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা ছাত্রলীগ করতো। তাদের সেল্টার দিচ্ছে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন সেন্টু। সে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য হামলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে জড়িত ছিলো। কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের সাথে থানায় বসে আড্ডা দেয় সার্কেল। এই সার্কেল ছাত্রলীগ করতো। সে ছাত্রলীগের লোকদের শেল্ডার দিচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সার্কেলের প্রত্যাহার দাবি করছি।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, কিশোর অপরাধে জড়িত সন্দেহে আমরা তানভীরুল ইসলাম তারেক সহ ৫জনকে আটক করেছি। তবে তারা জড়িত কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হলে থানায় কোনো কিশোর অপরাধে জড়িতদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ নেয়। এবং সেটা চোখে পড়েনি বলে মন্তব্য করেন।
