ফেনী প্রতিনিধি :
টানটান উত্তেজনা আর দিনভর ভোট উৎসব শেষে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নির্বাচনে সভাপতি পদে জিয়া উদ্দিন আহমেদ মিস্টার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মুশফিকুর রহমান পিপুল। এতে মাছ প্রতীকের জিয়া-হারুন পরিষদ থেকে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও নির্বাহী সদস্যসহ ১৭টি পদে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে ছাতা প্রতীকের মিলন-পিপুল পরিষদ ১০টি পদে জয় পেয়েছে।
শনিবার (৯ মে) ফেনী সেন্ট্রাল হাই স্কুল কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার মোহাং আলমগীর চৌধুরী ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফেনী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. জহির উদ্দিন। এই নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮৬০ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৬৮৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৯০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ঘোষিত ফলাফলে মাছ প্রতীকের জিয়া-হারুন পরিষদ থেকে সভাপতি পদে জিয়া উদ্দিন আহমেদ মিস্টার ৮৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের নাসির উদ্দিন মিলন পেয়েছেন ৬৭২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মাওলা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে ছাতা প্রতীকের মুশফিকুর রহমান পিপুল ৮৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাছ প্রতীকের ফারুক হারুন পেয়েছেন ৭৩৮ ভোট।
নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে আশরাফুল হায়দার মাছ প্রতীকে ৮৫০ ভোট, আবুল কালাম আজাদ ভূঞা ছাতা প্রতীকে ৭৫৮ ভোট এবং দিদারুল আলম ছাতা প্রতীকে ৭৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খুরশীদ আলম ছাতা প্রতীকে ৬৫০ ভোট, মহিউদ্দিন খান মাছ প্রতীকে ৬৪৮ ভোট এবং মোহাম্মদ আবদুর রহিম মাছ প্রতীকে ৬৩৪ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ফরিদুল ইসলাম রাহাত ছাতা প্রতীকে ৮৭২ ভোট এবং মাছ প্রতীকে জিয়া উদ্দিন ৭৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ছাতা প্রতীকে ৭৩৪ ভোট পেয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে গিয়াস উদ্দিন হেলাল ছাতা প্রতীকে ৯৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩২ ভোট।
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. এমদাদুল হাসান ছাতা প্রতীকে ৭১২ ভোট এবং সাঈদুল মিল্লাত মাছ প্রতীকে ৬৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জাহিদ হোসেন তানিম মাছ প্রতীকে ৬৫৫ ভোট ও এম. এ. কাশেম ছাতা প্রতীকে ৬৩৯ ভোট পেয়েছেন।
কোষাধ্যক্ষ পদে মাছ প্রতীকের মজিবুল হক ৭৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম উদ্দিন ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭৫ ভোট।
প্রচার সম্পাদক পদে ইফতেখার রাশেদ মাছ প্রতীকে ৮৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী কামরুল হাসান ভূঁঞা ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৫১১ ভোট। দপ্তর সম্পাদক পদে ইয়াকুব আলী মাছ প্রতীকে ৮৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাতা প্রতীকের সরাফ উদ্দিন পেয়েছেন ৪৮১ ভোট।
নির্বাচনে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে (ইসলাম) মাওলানা ওমর ফারুক মাছ প্রতীকে ৭৪২ ভোট ও (হিন্দু) দিপক চন্দ্র পাল ছাতা প্রতীকে ৬৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জসিম উদ্দিন ছাতা প্রতীকে ৬২৭ ভোট ও অনিল নাথ মাছ প্রতীকে ৬২৫ ভোট পেয়েছেন। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আবু আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য পদে মো. নাছির উদ্দিন মাছ প্রতীকে ৮৬৪ ভোট পেয়ে প্রথম, ওমর ফারুক সজিব মাছ প্রতীকে ৮২৮ ভোট, কাজী শাহ আলম রিপন ছাতা প্রতীকে ৮২৫ ভোট, মনির উদ্দিন মাছ প্রতীকে ৭৯৮ ভোট, হাজী মোহাম্মদ আইয়ুব মাছ প্রতীকে ৭৮৫ ভোট, কামরুল জামান মজুমদার ছাতা প্রতীকে ৭৮২ ভোট, মো. শাহ আলম মাছ প্রতীকে ৭৬০ ভোট, ওসমান গণি রাসেল মাছ প্রতীকে ৭৫২ ভোট, আরিফ মোহাম্মদ মাছ প্রতীকে ৭৫১ ভোট, মো. সাইফুল ইসলাম মাছ প্রতীকে ৭৩৭ ভোট এবং ১১তম সদস্য হিসেবে মোশাররফ হোসেন মাছ প্রতীকে ৭১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচনে সহ সভাপতি পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী আশ্রাফুল হায়দার রিঙ্কু বলেন, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ শহরের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রত্যাশা তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। নির্বাচন কমিশন সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছেন৷ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস শহরের ব্যবসায়ীদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী মুশফিকুর রহমান পিপুল বলেন, আমার সাধ্য অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কল্যাণে কাজ করব। সকলের সহযোগিতায় ব্যবসাবান্ধব সুশৃঙ্খল সমিতি গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর।
ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন কমিশনার মোহাং আলমগীর চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক সহযোগিতা করেছেন।
প্রসঙ্গত, সমিতির ২৭টি পদের বিপরীতে দুইটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৫৩ জন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শহরের ব্যবসায়ীদের মাঝে বিগত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা দেখা গেছে।