মেহেরপুর প্রতিনিধি :
অনলাইন জুয়ার এজেন্ট রাফসান জনি রিপন (৩২) সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে মেহেরপুর ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অন্যান্যরা হলো- মোঃ ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯), মোঃ বায়েজিদ ডালিম (৩০) ও মোঃ রকিবুল ইসলাম (৩৫)।
শুক্রবার ১৫ মে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানা এলাকায় রাতভর অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির একটি টিম মেহেরপুর সদর থানাধীন চাঁদবিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে মোঃ বায়েজিদ ডালিম (৩০) কে গ্রেফতার করে। এ সময় তার হেফাজত হতে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদের ফোন তল্লাশি করে বাইনান্স এর মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনা বেচা এবং অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসাবে কাজ করার তথ্য পাওয়া যায়। তার ফোনে অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত চারটি ই-মেইল অ্যাড্রেসের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগরের পুরন্দরপুর গ্রাম হতে মোঃ রকিবুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত হতে একটি অপ্পো স্মার্ট ফোন ও একটি ভিভো স্মার্ট ফোন জব্দ করা হয়। রকিবুলের ফোন দুটি চেক করে অনলাইন জুয়া খেলার জন্য বাইনান্স এর মাধ্যমে অবৈধ ডলার কেনা বেচা করা ও জুয়া খেলার তথ্য পাওয়া যায়।
ঐদিন ডিবির আরেকটি টিম গাড়াডোব এলাকা হতে রাফসান জনি রিপনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার হেফাজত হতে একটি রেডমি নোট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার মোবাইল ফোন প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে ৩৭টি মেইল আইডিসহ ২৯টি জুয়া খেলার অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমঝুপি এলাকা হতে মোঃ ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার হেফাজত হতে একটি অপ্পো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উক্ত ফোনের মধ্যেও সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়া খেলার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জানায়, তারাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের যোগসাজসে তাদের ব্যবহৃত নিজ নিজ মোবাইল ডিভাইস এবং নিজ ও অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইবার স্পেসে প্রতারণামূলক কার্যক্রমসহ অনলাইন প্লাটফর্মে জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ ও জুয়া খেলা পরিচালনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিত মোবাইল ব্যাংকিং এবং বাইনান্স ব্যবহার করে অবৈধ ই-ট্রানজেকশন করে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে গ্রামের বেকার যুব সমাজ ও সাধারণ মানুষ স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভের আশায় সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে বিষণ্নতায় পড়ে মাদকাসক্তসহ সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মেহেরপুর গাংনী ও সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এ পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
