ফেনীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণে :
রাজনীতিতে সোনাগাজীর রুহুল আমিন ও রফিকুল ইসলাম খোকন একই বলয়ের অনুসারী। দুইজনের অনুসারীদের ৯০ শতাংশ একই বলয়ের।
ভবিষ্যতে দুইজন একই টেবিলে, একই বলয়ের জন্য কাজ করলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা।কারন রাজনীতিতে রাজনৈতিক নেতাদের শেষ অবস্থান বলতে কিছুই থাকেনা।
সোনাগাজীতে হাজী রহিম উল্যার বিরুদ্ধে দুইজনই একজোট হয়ে তাদের রাজনৈতিক বলয়ের পক্ষে কাজ করেছে।
অথচ দেখেন নুসরাতকান্ডে রফিকুল ইসলাম খোকন যখন প্রকাশ্যে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তখন দুইজন একই বলয়ের হওয়ার পরও খোকনকে থামায়নি।এমনকি খোকনের রিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়নি।বরং খোকনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মজবুত হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতারা অনুগত ও সমর্থকদের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ এবং নিজ পরিবারের স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে থাকে।এটি যুগে যুগে প্রমানিত সত্য।
আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বলছি রফিকুল ইসলাম খোকনের সাথে আমার দুরত্ব নুসরাতের রহস্যজনক মৃত্যুর মামলাকে কেন্দ্র করে।
১৬ জন নিরাপরাধ মানুষকে ফাঁসাতে খোকনের প্রকাশ্য কর্মকান্ড আমি মেনে নিতে পারিনি।আমি প্রকাশ্যে ১৬ জন নিরাপরাধ মানুষের পক্ষে ছিলাম এবং আছি।
এ দুরত্বের কারনে মেয়র খোকন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সাংবাদিকতার প্রাপ্য সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আমাকে, মানে আমার পত্রিকাকে কোন বিজ্ঞাপন দেয়নি।তিনি সব বিজ্ঞাপন দিয়েছে তার দলের বিরোধী মতের নিজের অনুগত সংবাদকর্মীদের।অথচ জামাল উদ্দিন সেন্টু মেয়র থাকাকালে আমি, মানে আমার পত্রিকা বিজ্ঞাপন পেয়েছে।
এর বিপরীতে ১৬ জন নিরাপরাধ মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে রুহুল আমিন।
কারাগারে থাকলেও রুহুল আমিন সোনাগাজীর রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের ভুমিকা পালন করতে পেরেছে।ফেনীর রাজনৈতিক বলয় সোনাগাজীর সরকারী কাজের তদারকির দায়িত্ব তাকে দিয়ে সম্পন্ন করেছে।সেই কাজের তদারকির সময় যারা রুহুল আমিনের পক্ষে ছিল, তারা কেউ রুহুল আমিনের প্রকৃত অনুসারী ছিলনা।রুহুল আমিনের মুক্তির আন্দোলনে তারা ভূমিকাও রাখেনি।বরং তলে তলে রফিকুল ইসলাম খোকনের সাথে সম্পর্ক রাখতেন।১৬ জন নিরাপরাধ মানুষের মুক্তির আন্দোলনের সময় খুউব কাজ থেকে আমি দেখেছি কারন আমি পুরো আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলাম।নিউজের জন্য রুহুলের আমিনের পক্ষে বক্তব্য দিতে আওয়ামীলীগের জেলা উপজেলার দায়িত্বে থাকা সবার সাথে বহুবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু সবাই অপারগতা প্রকাশ করেছে।এমনকি রুহুল আমিনের পরিবারের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
সরকারী কাজের নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা রুহুল আমিনের হাতে থাকলেও তিনি ইচ্ছে করলে কয়েকটি কাজ আমাকে দিতে পারতেন।মানে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি করার চেষ্টা করতে পারতেন।কিন্তু সেই ভাগ্য আমার হয়নি।
খোকন থেকেও বঞ্চিত,রুহুল আমিন থেকেও বঞ্চিত হয়েছি।আমি এসব নিয়ে খুউব একটা ভাবিনা কারন আমি আগেরও ফকির,আজকেরও ফকির,ভবিষ্যতেও ফকির থাকবো।আমার প্রাপ্যতা হল আমি ১৬ জন নিরাপরাধ মানুষের পক্ষে সাংবাদিকতা করতে পেরেছি।
খোকনের অন্যায় অনিয়ম দুর্ণীতি নিয়ে আমি প্রচুর নিউজ করেছি।খোকনও বসে থাকেনি,আমাকে ঠেকাতে যেখানে যাহা করার সব করেছে।তবে একটি বিষয়ে খোকনের সুনাম করতেই হবে।সেটি হল খোকন কখনো প্রকাশ্যে আমাকে থ্রেট করেনি,যখনি দেখা হত হাসিমুখে কুসল বিনিময় করত।
অপরদিকে রুহুল আমিন নিজ স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে আমাকে খুউব পছন্দ করে,ভালোবাসে।মজলুম রুহুল আমিনের পক্ষে ছিলাম,ভবিষ্যতে কখনো রুহুল আমিন মজলুম থেকে বিচ্যুতি হলে ঠিকই আবার পেশাদারিত্ব বজায় রাখবো।কারন আমি কখনো রুহুল আমিনের বেতনভুক্ত ছিলাম না।
আবুল হোসেন রিপন, লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী।
