Wednesday, October 28, 2026
হোম জাতীয় সেনবাগের প্রাথমিক শিক্ষায় অনিয়মের জাল

সেনবাগের প্রাথমিক শিক্ষায় অনিয়মের জাল

সেনবাগ প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ভুক্তভোগীদের। বেতন সমতাকরণের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের বরাদ্দ থেকে কথিত কমিশন আদায়, সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ততা, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৩ জন শিক্ষকের কাছ থেকে বেতন সমতাকরণের কথা বলে ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা আদায় এবং ২৫টি বিদ্যালয়ের মেরামতকাজে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা কর্তনের অভিযোগ। একই সঙ্গে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বিভাগীয় মামলা হলেও চূড়ান্ত ব্যবস্থা কী হয়েছে, তা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।

সমতাকরণের নামে ১৪৩ শিক্ষকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা?

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষক জানান, বেতন সমতাকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা বলে একটি শিক্ষকগোষ্ঠী বিভিন্ন ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩১ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫০ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ৩৫ হাজার টাকা এবং ২০১২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫৫ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে ১৪৩ জন শিক্ষকের কাছ থেকে আদায়ের অভিযোগের পরিমাণ ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ/এজি অফিসসহ বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা দিতে হবে—এমন কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে নন্দীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা বাবু, এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুর হোসেন সুমন, উত্তর জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোকারম হোসেন, খাজুরিয়া সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাব উদ্দিন এবং গোলাম মাওলা বাবুর ভাই কালারাইতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাংকেতিক গ্রুপে টাকা সংগ্রহের তথ্য?
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—টাকা সংগ্রহ ও যোগাযোগের জন্য একটি মেসেজিং গ্রুপ ব্যবহারের দাবি।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রুপে বিভিন্ন নিয়োগ সালের শিক্ষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে টাকা সংগ্রহের বিষয়ে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রুপের সদস্যদের মোবাইল নম্বরও সেখানে দৃশ্যমান থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সত্যতা যাচাই করা গেলে কারা টাকা সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে এবং অর্থ কোথায় গেছে—তা অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩ বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ৮১ লাখ টাকা
২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেনবাগ উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য মোট ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেনবাগ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ২২ মে ২০২৫ তারিখে ২৫টি বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য কোটেশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এসব কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৬ লাখ ৭ হাজার ৮৫১ টাকা ৮৭ পয়সা।
অন্যদিকে দেড় লাখ টাকার নিচে থাকা আরও ১৮টি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

অভিযোগ হচ্ছে, কাগজে-কলমে কোটেশন প্রক্রিয়া থাকলেও বাস্তবে প্রভাবশালী একটি শিক্ষকগোষ্ঠী তাদের পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ করিয়েছে। পরে বরাদ্দের অর্থ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ কর্তনের অভিযোগ ওঠে।

কথিত ৩০ শতাংশ কমিশন!
প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২৫টি বিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে ভ্যাট কর্তনের পর কথিতভাবে ৩০ শতাংশ অর্থ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৯৪ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এর বাইরে ২৫টি বিদ্যালয় থেকে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং ১৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

তবে এই অর্থের প্রকৃত প্রবাহ, কার হাতে কত টাকা গেছে এবং কাজের প্রকৃত ব্যয় কত—তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, বিল-ভাউচার, কোটেশন, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই এবং কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা জরুরি।

কয়েকটি বিদ্যালয়ের হিসাবেই উঠে আসছে বড় প্রশ্ন

প্রতিবেদনে সরবরাহ করা হিসাবের মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের তথ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
পদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: বরাদ্দ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯৮ টাকা ৪২ পয়সা। ভ্যাট বাবদ ২৮ হাজার ৩৮৯ টাকা এবং কথিত ৩০ শতাংশ হিসেবে ৪১ হাজার ৫৮২ টাকা কর্তনের অভিযোগ।
পশ্চিম জিরুয়া আকবরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: বরাদ্দ ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা ৬২ পয়সা। ভ্যাট ৫৫ হাজার ১৪৪ টাকা এবং কথিত ৩০ শতাংশ হিসেবে ৯৫ হাজার ৪১৬ টাকা কর্তনের অভিযোগ।

বাবুপুর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: বরাদ্দ ৭ লাখ ১১ হাজার ৫৬৫ টাকা ৩০ পয়সা। ভ্যাট ৮১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং কথিত ৩০ শতাংশ হিসেবে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৭১ টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
চিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: বরাদ্দ ৫ লাখ ২৭ হাজার ২৮৮ টাকা ৩২ পয়সা। ভ্যাট ৬৪ হাজার ৯০ টাকা এবং কথিত ৩০ শতাংশ হিসেবে ৯৩ হাজার ৮৭৩ টাকা কর্তনের অভিযোগ।

সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: বরাদ্দ ৩ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৬ টাকা। ভ্যাট ৬৫ হাজার ৮২ টাকা এবং কথিত ৩০ শতাংশ হিসেবে ৯৫ হাজার ৩২৯ টাকা কর্তনের অভিযোগ।
এ ধরনের হিসাব আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে এ ধরনের কোনো অর্থ কর্তনের বৈধ ভিত্তি ছিল কি না। যদি না থাকে, তাহলে অর্থ কোথায় এবং কোন প্রক্রিয়ায় গেছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

সমন্বয় সভায় সহকারী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেনবাগ উপজেলার ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকদের ওই সভায় এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুর হোসেন সুমন অংশগ্রহণ ও সভা পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে সমতাকরণের টাকা নিয়ে একজন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় এবং ওই প্রধান শিক্ষককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—একজন সহকারী শিক্ষক কীভাবে প্রধান শিক্ষকদের নিয়মিত সমন্বয় সভায় নেতৃত্ব বা পরিচালনার ভূমিকা পেলেন এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর প্রশাসনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থেকে সভায় উপস্থিত থাকার অভিযোগ
এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল আলম সমন্বয় সভায় অংশ নেওয়ার সময় অন্য তিনজনের বিদ্যালয়ে থেকে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নুর হোসেন সুমন ও আবদুল জলিল সেদিন বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমে না থেকে সমন্বয় সভায় অবস্থান করেন। ফলে একজন শিক্ষককে দিয়ে সব শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয় নয়; সরাসরি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত।

সরকারি চাকরি করে সাংবাদিকতা: তদন্তে অভিযোগের সত্যতা?
সেনবাগ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী খাজুরিয়া সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত উল্যা এবং সেনবাগ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও আরেকটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় প্রতিনিধি এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুর হোসেন সুমনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন সাংবাদিক এম এ আউয়াল।

এরপর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলম চৌধুরী ৬ অক্টোবর ২০২৪ সেনবাগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ১৪ অক্টোবর ২০২৪ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর জেলা শিক্ষা অফিস থেকে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নং ১৫১ ও ১৫২ দায়ের করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ২৭ আগস্টের জেলা শিক্ষা অফিসের ১৯১১ ও ১৯১২ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে ৩১ আগস্ট বিভাগীয় মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের চিঠি দেওয়া হয়।
এখন প্রশ্ন—তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী?
এই প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারে জেলা শিক্ষা অফিসের নথি।

ধর্মঘটে বদলি, পরে বদলি বাতিল—কেন?
আরেকটি অভিযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে সারাদেশের ৪১ শিক্ষককে বিভাগীয় বদলি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনবাগের গোলাম মাওলা বাবু, নুর হোসেন সুমন ও সাহাব উদ্দিনকে লক্ষ্মীপুর জেলায় বদলি করা হয়।

পরবর্তীতে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাদের পুনরায় সেনবাগের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

এখানেই উঠছে প্রশ্ন—কোন প্রশাসনিক যুক্তিতে পূর্বের শাস্তিমূলক/বিভাগীয় বদলির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো?

আর যদি বদলির ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রযোজ্য হয়, তাহলে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির সুপারিশ কীভাবে করা হলো—এ বিষয়েও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্য
সেনবাগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বুধবার দুপুরে বলেন, তিনি সেনবাগে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর মাত্র ২০ দিন অতিবাহিত করেছেন। বেতন সমতাকরণের নামে টাকা উত্তোলন কিংবা বিদ্যালয় মেরামতের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। তিন বছর পূর্ণ হয়নি—এমন কয়েকজন শিক্ষকের বদলির সুপারিশও অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নীতিমালা পরিপন্থী কোনো কাজে শিক্ষকরা জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ৭ অক্টোবর একাধিকবার ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

ফেনীর ছাগলনাইয়াতে অসহায় পরিবারকে এক লক্ষ টাকা দিলেন আহমেদ মাহী রাসেল

ফেনী প্রতিনিধি: মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহামায়া ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও কোস্টাল কেরিয়ার লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম সি সাপোর্টের চেয়ারম্যান আহমেদ মাহী রাসেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে...

আইসিসিবিতে জাতীয় ফার্নিচার মেলা, বিনা মূল্যে প্রবেশ

স্টাফ রিপোর্টার: দেশীয় আসবাবশিল্পের আধুনিক নকশা, পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন উদ্ভাবন তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে ২১তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা। বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির...

ফেনীতে যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জসিমকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির সদস্য আবুল...

জনপ্রিয় খবর

प्रभावी रणनीति tower rush towerrush.in.net के साथ रोमांचक गेमप्ले

प्रभावी रणनीति tower rush towerrush.in.net के साथ रोमांचक गेमप्लेटावर रश: रणनीति और गेमप्ले का विश्लेषणसंसाधन प्रबंधन का महत्वगेमप्ले को बेहतर बनाने के लिए टिप्स...

ফেনীর ছাগলনাইয়াতে অসহায় পরিবারকে এক লক্ষ টাকা দিলেন আহমেদ মাহী রাসেল

ফেনী প্রতিনিধি: মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহামায়া ইউনিয়নের কৃতী সন্তান ও কোস্টাল কেরিয়ার লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম সি সাপোর্টের চেয়ারম্যান আহমেদ মাহী রাসেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে...

Hervorragende Tipps für deinen Spaß mit dem Ringo spin und mehr Action

Hervorragende Tipps für deinen Spaß mit dem Ringo spin und mehr ActionDie Grundlagen des Ringo Spins verstehenSicherheit geht vor: Wichtige HinweiseVerschiedene Varianten des Ringo...

संभावित परिणाम और crazy time results today के साथ मनोरंजन का एक अनूठा अनुभव

संभावित परिणाम और crazy time results today के साथ मनोरंजन का एक अनूठा अनुभवक्रेजी टाइम खेल का अवलोकनगेम कैसे खेलेंक्रेजी टाइम परिणाम विश्लेषणरणनीतियाँ और...

সর্বশেষ মন্তব্য

2